প্রিয়,
বরুণা,
তোমাকে বোঝাতে চাই শব্দের বাহুল্যতা,
শব্দের প্রতিশ্রুতির সত্য-মিথ্যার বৈসাদৃশ্যতা।
কিভাবে কবির মৃত্যুতে শোকাহত হয় কবিতারা,
কিভাবে প্রেমের অভাবে মানুষ হয় দিশেহারা।
তোমাকে দেখাতে চাই, অনুপমা,
কিভাবে নদীর স্রোতে ভেসে যায় শৈবাল, শ্যাওলা,
মাকড়সার জালে আটকে থাকে করুন হৃদয়।
কিভাবে জীবনের নেশায় পাগল হয় সাধু,
কিভাবে চোখের পলকে ভেসে থাকে প্রেমের স্মৃতি।
অরুন্ধতী,
এই মনে করো, পৃথিবীর শেষ মুহূর্তে বেঁচে আছে
একটা হলুদ শস্যফুল — আর তুমি।
আর প্রশ্ন করে বসলে, যেকোনো একটাকে বেছে নিতে,
তুমি ভাবলে আমি হয়তো তোমাকেই বেছে নেবো।
কিন্তু আমি করলাম উল্টোটা।
তুমি কি তখনও অভিমান করে ফুল ছিঁড়ে ফেলবে?
নাকি আমার ফুল বেছে নেওয়ার সৌন্দর্যতায়
প্রেমে পড়বে?
জানিও, কখনো চিঠি লিখলে।
কি শুনছো, অনামিকা?
এই মনে করো, আমি যুদ্ধে গেছি।
বিধ্বস্ত ধ্বংসাবশেষে যখন ফিরে এলাম সৈনিক পোশাকে,
তুমি কি রক্তমাখা তলোয়ার আগে পরিষ্কার করবে?
নাকি আমাকে বুকে টেনে আমার ভেজা শরীরের গন্ধ নেবে?
হ্যাঁ, এসব নিছক কবিতা ছাড়া কিছুই না — বলতেই পারো।
আসলেই কি তাই?
উপমা, তোমার চোখে চোখ রেখে কি কখনো মিথ্যা বলা সম্ভব?
যেখানে ডুবেছিল পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু হিমালয়,
হার শীতল হয়েছিল আমার একজোড়া চোখের দৃষ্টি।
বনলতা,
মনে আছে কি, তোমার জন্য জীবনানন্দ সেজে হেঁটেছিলাম
হাজার বছরের পুরোনো পথে,
ধূসর পান্ডুলিপি বুকে জড়িয়ে,
তোমাকে দিয়েছিলাম শিমুলতলীর হাসি।
বটবৃক্ষের নিচে বসে হয়েছিল দরকষাকষি —
জীবনের হিসাব যত বড়ই হোক,
আমরা চেয়েছিলাম শামুকের ঘর।
কুমুদিনী,
তোমার সাথে কি রাজনৈতিক আলাপ করা যাবে?
তুমি শুনবে? দেশের অর্থনৈতিক দুরবস্থা,
খাদ্যের সাথে কিভাবে অভাবে পড়েছে প্রেমের,
মানুষ হয়েছে রক্তের প্রতি আসক্ত,
ভ্যাম্পায়ারের মতো চুষছে কালো রক্ত, পুঁজ।
কিভাবে প্রেমিকেরা বিক্রি করছে দেহ,
আর বাড়ছে শারীরিক চাহিদা!
মাধবী,
তুমিও কি বাকিদের মতো?
হৃদয়ের পাশে রাখো কালো মন্ত্র,
ভালোবাসতে আসলে শরীরে ঢেলে দাও বিষাক্ত নীল রং,
যার প্রতিষেধক তোমার চুমু —
যেটা লুকিয়ে রাখো কর্পোরেট কলারধারীর জন্য।
অপরাজিতা,
তুমি কি পড়ছো আমার কবিতা?
ছন্দহীন, শব্দহীন নীরব অনুভূতি,
যার প্রত্যেকটা নীরবতা উচ্চস্বরে আহত করছে
কবির হৃদয়, আর কবিতারা আনন্দে উচ্ছ্বসিত হচ্ছে
হারাবার ভয়ে।

Comments
Post a Comment