Skip to main content

Posts

বিতৃষ্ণা জীবন

  বিতৃষ্ণা জীবন আহত কবির গান কাঁপে হৃদয়ের গভীর গহীনে, নীরব শ্রোতারা ভেসে যায় খামখেয়ালি স্রোতধারায়। বিষুবরেখা যেন ছুঁয়ে যায় কর্কটক্রান্তির সীমারেখা, আর আমার একতারা ভেঙে পড়ে সুরের অভিযোগে। তবুও, আঁকড়ে ধরি জীবন— সমুদ্রের সফেন ঢেউ পার হতে হবে। অপেক্ষারত যত পথিক, তাদের ছেড়ে দিতে হবে মুক্তির বায়ুতে। তাই হারিয়ে যাই আমিও আকাশ দেখার নেশায়, নাবিকের বেশে করি সমুদ্রপথের যাত্রা। যেন আদিবাসী শামুক— যার কোনো ঘর হয় না।
Recent posts

প্রান্তের কণ্ঠ

  প্রান্তের কণ্ঠ পৃথিবীর যে প্রান্তিক রেখায় দাঁড়িয়েছি— এক পা এদিকে, আর এক পা ওপরে দিলেই পড়ব তোমাদের কোনো বিলাসবহুল রাজ্যে; চীনের প্রাচীরের মতো উঁচু—উঁচু প্রত্যেক স্তুপ, যে স্তুপগুলি তোমরাই গড়েছো মৃত মানুষের আবিষ্কৃত ছাই থেকে। তোমরাই দায়ী—নিজের মতো দৈহিক আকারে গড়ে তুলেছিলে মানবসভ্যতাকে, যার এক-একটাকে নিজেরাই ভাঙো। আচ্ছা, তোমাদের কি আফসোস করে না? প্রেমিকের হৃদয়ে ফুল ফুটিয়ে আবার ধ্বংস করো টয় নগরী; মানুষকে প্রেমের গান শুনিয়ে— ওড়াও কালো পতাকা। আহারে, তোমাদেরও তো রক্ত লাল— রক্তের গ্রুপ আলাদা হওয়ার কথা, নাকি? তোমার শরীরে কর্পোরেট কালি, লোহিত অণুচক্রিকার বদলে কার্বোলিক অ্যাসিড। তোমরা মূলত কিসের ভিক্ষা চাও? জীবন নাকি জীবনকে ধ্বংস করার হাতিয়ার? তোমার যান্ত্রিক শক্তি ভেঙে দেয় হাজার বছরের পুরনো এপিটাফ। // ইমদাদ

নীলাঞ্জনা, আমার না, আজকাল কিছুই মনে থাকে না

প্রিয়, বরুণা, তোমাকে বোঝাতে চাই শব্দের বাহুল্যতা, শব্দের প্রতিশ্রুতির সত্য-মিথ্যার বৈসাদৃশ্যতা। কিভাবে কবির মৃত্যুতে শোকাহত হয় কবিতারা, কিভাবে প্রেমের অভাবে মানুষ হয় দিশেহারা। তোমাকে দেখাতে চাই, অনুপমা, কিভাবে নদীর স্রোতে ভেসে যায় শৈবাল, শ্যাওলা, মাকড়সার জালে আটকে থাকে করুন হৃদয়। কিভাবে জীবনের নেশায় পাগল হয় সাধু, কিভাবে চোখের পলকে ভেসে থাকে প্রেমের স্মৃতি। অরুন্ধতী, এই মনে করো, পৃথিবীর শেষ মুহূর্তে বেঁচে আছে একটা হলুদ শস্যফুল — আর তুমি। আর প্রশ্ন করে বসলে, যেকোনো একটাকে বেছে নিতে, তুমি ভাবলে আমি হয়তো তোমাকেই বেছে নেবো। কিন্তু আমি করলাম উল্টোটা। তুমি কি তখনও অভিমান করে ফুল ছিঁড়ে ফেলবে? নাকি আমার ফুল বেছে নেওয়ার সৌন্দর্যতায় প্রেমে পড়বে? জানিও, কখনো চিঠি লিখলে। কি শুনছো, অনামিকা? এই মনে করো, আমি যুদ্ধে গেছি। বিধ্বস্ত ধ্বংসাবশেষে যখন ফিরে এলাম সৈনিক পোশাকে, তুমি কি রক্তমাখা তলোয়ার আগে পরিষ্কার করবে? নাকি আমাকে বুকে টেনে আমার ভেজা শরীরের গন্ধ নেবে? হ্যাঁ, এসব নিছক কবিতা ছাড়া কিছুই না — বলতেই পারো। আসলেই কি তাই? উপমা, তোমার চোখে চোখ রেখে কি কখনো মিথ্যা বলা সম্ভব? যেখানে ডুবেছিল পৃথিবীর সবচেয়...

নীলাঞ্জনা, ছিলো আমার প্রথম প্রেমিকা,

  নীলাঞ্জনা, ছিলো আমার প্রথম প্রেমিকা, যাকে আমি আজো পাই নি।। ডাইরির পাতায় বন্ধ এখনো সেই নারী, যার কথা বললে, হিংসায় মারা যাবে পৃথিবীর সকল প্রজাপতি।।  কবিতা, কাব্য, গদ্য, সাহিত্য শেষ হবে তার বর্ননায়, শুধু থেকে যাবে আমার হৃদয়; কারন সেখানেই তার বাসবাস।। ধূসর পান্ডুলিপির মতো - কতো দেহ এলো,- গেল,- হাত ছুঁয়ে-ছুঁয়ে দিয়াছি ফিরায়ে সব; অপেক্ষা একটা নীল রঙের যেখানে থাকবেনা কোনো দাগ।। অদেখা, অবাস্তব, কাল্পনিক অস্তিত্বের সবই মিশে থাকে বাতাসে কেউ আসে প্রতিমা হয়ে,  কেউ আসে ঢেউ হয়ে, কেউ ডুবিয়ে দেয়, কেউ আঘাতের জোরে ভেঙে দেয় মন; আমি বসে থাকি সমুদ্র পারে -নাবিকের বেশে, আর দেখি জীবনের ভ্রম।

মানুষ এক কনফিউজড জীব;

  মানুষ এক কনফিউজড জীব; ‼️ মানুষ—সবচেয়ে বেশি সময় নিজের সাথেই কাটায়, তবুও নিজেকে বুঝতে প্রতিবারই ব্যর্থ হয়। আমরা যেন নিজের কষ্টগুলোকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকা শিখে ফেলেছি। অথচ চাইলে সব কিছুই একটু সহজে, একটু সুন্দরভাবে সমাধান করা যেত। 🍀 আমাদের শেখানো হয়নি কীভাবে আবেগকে গ্রহণ করে সমাধানের দিকে এগোতে হয়; বরং শেখানো হয়েছে কীভাবে সমস্যা এড়িয়ে যেতে হয়, কীভাবে দুঃখ নিয়ে কবিতা লিখে নিজেকে প্রবঞ্চিত করতে হয়। কিন্তু একটুখানি ভাবনার পরিবর্তন, একটুখানি মানসিকতা বদলেই দুঃখকে আনন্দে রূপ দেওয়া সম্ভব—এই সহজ বিষয়টা আমাদের বাবা-মা, অভিভাবকরা শেখাননি। পৃথিবী টিকে আছে তাদের জন্য যারা ‘সমাধানমুখী’। যারা শুধু সমস্যা নিয়ে পড়ে থাকে, তারা নিজের পরিবারের কাছেও সন্মানিত হতে পারে না। মূল কথা: Be a solution-oriented person. মানুষ ভুল করবে, কিন্তু খুব কমই আছে যারা সেই ভুল স্বীকার করে। তারা নিজের ভুলকে পাশ কাটিয়ে, অন্যের দোষ খোঁজে যেতে যেতে একসময় ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তখন ঘাসের উপরে শুয়ে থেকে বলে, “মানুষ একা... কেউ কারো না... একা থাকাই ভালো... ভালোবাসা শিখতে হলে কুকুরের কাছে শেখা উচিত...” ইত্যাদি।🙂 আমরা মূলত চাই আরও বেশ...

কাল্পনিক চরিত্রগুলো ক্লান্ত

 কাল্পনিক চরিত্রগুলো ক্লান্ত,  পথের বাঁকে বিভ্রান্ত, মন্থর কিছু স্বপ্ন যেন জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন। পথের ধারে ঘাসফুল - পিষে দেয় পাষাণপুর। রাক্ষস, ডায়নির রঙ-রূপ, বিবক্ষা, বিষাক্ত কিছু কথন, অসম্পূর্ণ ডায়েরির সম্পূর্ণ বচন। পূরক আর সম্পূরক কোণের মিলন - তীক্ষ্ণ যুক্তিতে মৃত বাস্তব। পিছু নিলেই যেন গহীন জঙ্গল - বিষণ্ন বৃষ্টি, মেঘের গর্জন, পাহাড়ের বুক চিরে নদীর কর্তন, প্লাবন আর জলচ্ছ্বাস। বৃক্ষ বেঁধে রাখে হাজার অভিলাষ... ☘️ ~ইমদাদ  ১৫ই জুলাই/২৫

মধ্যরাতে পরিচয় হয় নিজের সাথেই

  মধ্যরাতে— 🍀 পরিচয় হয় নিজের সাথেই। কে আমি? কেমন আছি? কেনই বা আমি? আসলে, আছে কি আমারই কোনো অস্তিত্ব? মহাকাশের তারা যেন ধুমকেতু হয়ে ঝরে পড়ে মস্তিষ্কে, আর আমি খুঁজি— হারিয়ে যাওয়া এক স্বত্তাকে। পৃথিবীর মায়ারেখা ধরে হেঁটে চলেছি শতাব্দীজুড়ে, যেখানে নাবিকও হারিয়েছে দিশা— ভুল দরজায় কড়া নাড়ি আমি, যাযাবর হয়ে বেছে নিয়েছি মরুভূমির একাকী পথ। ক্ষুধা গিলে জন্ম নেয় কাঁটাযুক্ত ক্যাকটাস। আবার, চোখ বুজলেই পরিচয় হয় তোমার সাথে— কে তুমি? কেমন আছো? কেনই বা তুমি? আছোও কি আদৌ? তুমি যেন মরুভূমিতে আটকে থাকা ধূসর মরীচিকা, আর আমি— যেনো, পথভ্রষ্ট পথিকের এক ঢোক জল। মূলত, আমি-তুমি— তুমি-আমি, নিজের প্রতিপক্ষ নিজেই। নিজেই প্রশ্নচিহ্ন, নিজেই আবার বিস্ময়ের চিহ্ন! নিজেই হাজার প্রশ্ন, নিজেই গোপন উত্তর। মধ্যরাতে জেগে ওঠে কিছু না-পাওয়া চাওয়ারা— তোমার অনুভূতি, তোমার ছোঁয়া, এক নীরব আলিঙ্গন। তোমাকে ছুঁতে যাই এমনভাবে, যেন ছুঁতে না পারলেই— ব্যর্থ হবে আমার কবিতা। 🍀 ~ ইমদাদ  ১৪/জুন২৫