বিতৃষ্ণা জীবন আহত কবির গান কাঁপে হৃদয়ের গভীর গহীনে, নীরব শ্রোতারা ভেসে যায় খামখেয়ালি স্রোতধারায়। বিষুবরেখা যেন ছুঁয়ে যায় কর্কটক্রান্তির সীমারেখা, আর আমার একতারা ভেঙে পড়ে সুরের অভিযোগে। তবুও, আঁকড়ে ধরি জীবন— সমুদ্রের সফেন ঢেউ পার হতে হবে। অপেক্ষারত যত পথিক, তাদের ছেড়ে দিতে হবে মুক্তির বায়ুতে। তাই হারিয়ে যাই আমিও আকাশ দেখার নেশায়, নাবিকের বেশে করি সমুদ্রপথের যাত্রা। যেন আদিবাসী শামুক— যার কোনো ঘর হয় না।
প্রান্তের কণ্ঠ পৃথিবীর যে প্রান্তিক রেখায় দাঁড়িয়েছি— এক পা এদিকে, আর এক পা ওপরে দিলেই পড়ব তোমাদের কোনো বিলাসবহুল রাজ্যে; চীনের প্রাচীরের মতো উঁচু—উঁচু প্রত্যেক স্তুপ, যে স্তুপগুলি তোমরাই গড়েছো মৃত মানুষের আবিষ্কৃত ছাই থেকে। তোমরাই দায়ী—নিজের মতো দৈহিক আকারে গড়ে তুলেছিলে মানবসভ্যতাকে, যার এক-একটাকে নিজেরাই ভাঙো। আচ্ছা, তোমাদের কি আফসোস করে না? প্রেমিকের হৃদয়ে ফুল ফুটিয়ে আবার ধ্বংস করো টয় নগরী; মানুষকে প্রেমের গান শুনিয়ে— ওড়াও কালো পতাকা। আহারে, তোমাদেরও তো রক্ত লাল— রক্তের গ্রুপ আলাদা হওয়ার কথা, নাকি? তোমার শরীরে কর্পোরেট কালি, লোহিত অণুচক্রিকার বদলে কার্বোলিক অ্যাসিড। তোমরা মূলত কিসের ভিক্ষা চাও? জীবন নাকি জীবনকে ধ্বংস করার হাতিয়ার? তোমার যান্ত্রিক শক্তি ভেঙে দেয় হাজার বছরের পুরনো এপিটাফ। // ইমদাদ