প্রিয়, বরুণা, তোমাকে বোঝাতে চাই শব্দের বাহুল্যতা, শব্দের প্রতিশ্রুতির সত্য-মিথ্যার বৈসাদৃশ্যতা। কিভাবে কবির মৃত্যুতে শোকাহত হয় কবিতারা, কিভাবে প্রেমের অভাবে মানুষ হয় দিশেহারা। তোমাকে দেখাতে চাই, অনুপমা, কিভাবে নদীর স্রোতে ভেসে যায় শৈবাল, শ্যাওলা, মাকড়সার জালে আটকে থাকে করুন হৃদয়। কিভাবে জীবনের নেশায় পাগল হয় সাধু, কিভাবে চোখের পলকে ভেসে থাকে প্রেমের স্মৃতি। অরুন্ধতী, এই মনে করো, পৃথিবীর শেষ মুহূর্তে বেঁচে আছে একটা হলুদ শস্যফুল — আর তুমি। আর প্রশ্ন করে বসলে, যেকোনো একটাকে বেছে নিতে, তুমি ভাবলে আমি হয়তো তোমাকেই বেছে নেবো। কিন্তু আমি করলাম উল্টোটা। তুমি কি তখনও অভিমান করে ফুল ছিঁড়ে ফেলবে? নাকি আমার ফুল বেছে নেওয়ার সৌন্দর্যতায় প্রেমে পড়বে? জানিও, কখনো চিঠি লিখলে। কি শুনছো, অনামিকা? এই মনে করো, আমি যুদ্ধে গেছি। বিধ্বস্ত ধ্বংসাবশেষে যখন ফিরে এলাম সৈনিক পোশাকে, তুমি কি রক্তমাখা তলোয়ার আগে পরিষ্কার করবে? নাকি আমাকে বুকে টেনে আমার ভেজা শরীরের গন্ধ নেবে? হ্যাঁ, এসব নিছক কবিতা ছাড়া কিছুই না — বলতেই পারো। আসলেই কি তাই? উপমা, তোমার চোখে চোখ রেখে কি কখনো মিথ্যা বলা সম্ভব? যেখানে ডুবেছিল পৃথিবীর সবচেয়...